দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশপথে গ্রাহক চাহিদা বাড়ছে। এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন রুটে বাড়ছে উড়োজাহাজ পরিষেবা, যাতে প্রভাবিত হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের চাহিদাও। বিষয়টি আমলে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি করার পরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়ার এশিয়া ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এডিই)। খবর নিক্কেই এশিয়া।
এডিই হলো এয়ারএশিয়ার প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটালের অধীনে থাকা উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট। বর্তমানে ১৬টি রক্ষণাবেক্ষণ লাইন পরিচালনা করছে কোম্পানিটি, যার মধ্যে ১৪টি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে সেপাংয়ে ও দুটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জোহর বাহরুতে অবস্থিত।
এডিইর সিইও মাহেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি সেপাং ঘাঁটিতে প্রায় ২৫ কোটি রিঙ্গিত বা ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিনিয়োগে ৮০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে। এতে মোট লাইন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০-এ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া, অন্তত আসিয়ান অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার (এমআরও) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হওয়া।’
বর্তমানে এডিইর ৯০ শতাংশ আয় আসে এয়ারএশিয়ার বহরের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ, বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য এয়ারলাইনসের কাছ থেকে। এখন অন্য এয়ারলাইনসের কাছ থেকে অর্ডারের অনুপাত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চায় কোম্পানিটি।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে এয়ার ফ্রান্সের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এডিই। এর আওতায় থাকবে সময়সাপেক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঠামোগত পরিবর্তন সেবা।
ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণে (এমঅ্যান্ডএ) অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে এডিই। ল্যান্ডিং গিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা দিতে গত বছর কোম্পানিটি ইন্দোনেশিয়ার জিএমএফ অ্যারোএশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি করে।
মাহেশ কুমার বলেন, ‘আশা করছি, চলতি বছর আমরা অন্তত আরো দুটি এমঅ্যান্ডএ চুক্তির ঘোষণা দিতে পারব। চুক্তিগুলো ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া কিংবা মালয়েশিয়ায় হতে পারে।’
কোম্পানির এমঅ্যান্ডএ বিনিয়োগের আকার প্রায় ১০ কোটি ডলার হবে বলে জানান মাহেশ কুমার।
২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা এডিই এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তুলনামূলক নতুন প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলে এমআরও খাতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও এসআইএ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্দোনেশিয়ার জিএমএফ অ্যারোএশিয়া। তবে গত বছর কোম্পানিটির আয় ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ রিঙ্গিতে এবং নিট মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ২১ লাখ রিঙ্গিত।
মহেশ কুমার বলেন, ‘বর্তমানে সরবরাহ সক্ষমতার তুলনায় এডিইর চাহিদা অনেক বেশি। কোম্পানির হ্যাঙ্গারগুলো ১২ মাসের জন্য পুরোপুরি বুকড রয়েছে।’
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অলিভার ওয়াইম্যানের পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছর বৈশ্বিক এমআরও বাজার ১১ হাজার ৯০০ কোটি ও ২০৩৫ সালে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। আগামী এক দশকে এশিয়ার এমআরও বাজার গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দেখবে।